Skip to content
November 8, 2026
গ্যাস সংকটে দিশেহারা মানুষ: সরাসরি তদারকিতে প্রধানমন্ত্রী
দেশচিত্র

গ্যাস সংকটে দিশেহারা মানুষ: সরাসরি তদারকিতে প্রধানমন্ত্রী

In This Article

    সকালে গাড়িতে গ্যাস নেই। বাসায় চুলা জ্বলছে না ঠিকমতো। কারখানার মেশিন চলছে না স্বাভাবিক গতিতে। কোথাও উৎপাদন কমেছে, কোথাও কারখানা প্রায় বন্ধ। দিনের পর দিন একই সংকট চলতে থাকায় এখন প্রশ্ন উঠছে- গ্যাসের এই ঘাটতি আর কতদিন?

    প্রায় এক মাস ধরে চলা গ্যাস সংকট এবার দেশের অর্থনীতির ওপরও চাপ তৈরি করেছে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে শিল্পকারখানা। রপ্তানিমুখী শিল্পে উৎপাদন কমে যাওয়ায় তৈরি হয়েছে নতুন উদ্বেগ। এর প্রভাব পড়ছে শ্রমিক-কর্মচারীদের কাজেও।

    পরিস্থিতির এমন অবনতিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গ্যাস সংকটের পেছনের কারণ খুঁজে বের করতে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। বিশেষ করে এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে আগুন, সরাসরি ক্রয় নীতির আওতায় এলএনজি কার্গো কেনা এবং সময়মতো সেই কার্গো সরবরাহ না হওয়ার বিষয়গুলো প্রধানমন্ত্রীর নজরে এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, সরাসরি তদারকি করছেন প্রধানমন্ত্রী।

    সংকট সামাল দিতে জ্বালানি বিভাগের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

    আগুনের পর শুরু, কার্গো না আসায় দীর্ঘ হচ্ছে সংকট

    দেশের দুটি এলএনজি টার্মিনালের একটি এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল। ২১ জুলাই সেখানে আগুন লাগার পর গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের ধাক্কা আসে।

    টার্মিনালটি আংশিকভাবে ৬ আগস্ট সচল হলেও সংকট কাটেনি। কারণ টার্মিনাল প্রস্তুত থাকলেও প্রয়োজনীয় এলএনজি কার্গো সেখানে পৌঁছায়নি।

    ফলে একটি টার্মিনাল কার্যত বসে আছে, আর অন্যটি থেকে সীমিত পরিমাণ গ্যাস দিয়ে পুরো দেশের চাহিদা সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

    এখন সামিটের টার্মিনাল থেকে দিনে প্রায় ৫৬ থেকে ৫৭ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। এক্সিলারেটের টার্মিনালটি বুধবার বিকাল ৩টা থেকে কার্গোর অভাবে আবার বন্ধ হয়ে গেছে।

    অর্থাৎ টার্মিনাল আছে, সরবরাহের সক্ষমতাও আছে, কিন্তু টার্মিনালে দেওয়ার মতো গ্যাস নেই।

    তদন্ত দল, টার্মিনালে উঠতেই পারল না

    গ্যাস সংকটের পেছনে এক্সিলারেটের টার্মিনালে আগুনের ভূমিকা কতটা, তা খতিয়ে দেখতে জ্বালানি বিভাগের যুগ্ম সচিব ফজলুল হকের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল।

    কমিটি জুলাইয়ের শেষ দিকে মাতারবাড়িতে যায়।

    কিন্তু সেখানে গিয়ে তদন্ত দল টার্মিনালে প্রবেশের অনুমতি পায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

    কমিটির এক সদস্যের ভাষ্য অনুযায়ী, টার্মিনালে প্রায় ৪০ জন কর্মরত থাকায় নতুন কাউকে সেখানে উঠতে দেওয়া হবে না বলে জানায় এক্সিলারেট।

    শুধু তদন্ত কমিটিই নয়, সরকারের একজন প্রতিমন্ত্রীও টার্মিনাল পরিদর্শনে গিয়ে অনুমতি পাননি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। পরে সেখানে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানকে পাঠানো হয়।

    এখন প্রশ্ন উঠছে- সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনায় দুর্ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে সরকারি তদন্ত দলই যদি প্রবেশের অনুমতি না পায়, তাহলে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ বের হবে কীভাবে?

    কার্গো কেনা হলো, কিন্তু এল না

    গ্যাস সংকটের আরেকটি কারণ উঠে এসেছে এলএনজি কার্গো সংগ্রহের ব্যবস্থাপনায়।

    সামিটের টার্মিনালের জন্য সরাসরি ক্রয় নীতির আওতায় একটি কার্গো আসার কথা থাকলেও সেটি সময়মতো আসেনি। পরে স্পট মার্কেট থেকে ‘বিটল এশিয়া’ থেকে অন্য একটি কার্গো কিনে সামিটের টার্মিনালে আনা হয়।

    কিন্তু ততদিনে সংকটের চাপ আরও বেড়ে যায়।

    অন্যদিকে এক্সিলারেটের টার্মিনাল গত এক সপ্তাহ ধরেই পূর্ণ সক্ষমতায় এলএনজি সরবরাহের জন্য প্রস্তুত ছিল। সেখানে প্রয়োজনীয় কার্গো না থাকায় সেই সক্ষমতাও কাজে লাগানো যায়নি।

    ২৩ আগস্ট বিপি সিঙ্গাপুর থেকে একটি এলএনজি কার্গো আসার কথা রয়েছে। সেটি এলে এক্সিলারেটের টার্মিনাল আবার চালু করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

    সিদ্ধান্তের ভুলের খেসারত দিচ্ছে কারখানা

    জ্বালানি বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংকট দীর্ঘায়িত হওয়ার পেছনে সরবরাহ পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের দুর্বলতাও রয়েছে।

    ৬ আগস্টের মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে সরাসরি ক্রয় নীতির আওতায় কেনা কার্গো সময়মতো না আসার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে স্পট মার্কেট থেকে দুটি কার্গো কেনার অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেটি অনুমোদন না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয় বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

    এর খেসারত এখন দিতে হচ্ছে শিল্পখাতকে।

    গ্যাসের অভাবে শত শত কারখানার উৎপাদন কমেছে বা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। উৎপাদন কমলে শুধু রপ্তানি আয় নয়, শ্রমিক-কর্মচারীদের কর্মসংস্থানও ঝুঁকির মুখে পড়ে।

    প্রধানমন্ত্রীর নজর এখন জ্বালানি ব্যবস্থাপনায়

    পরিস্থিতি সামাল দিতে এখন জ্বালানি বিভাগের কার্যক্রম সরাসরি নজরদারিতে নেওয়া হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর টেলিযোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদকে এলএনজি ক্রয়সহ জ্বালানি বিভাগের কার্যক্রম নিয়মিত জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী বা তার টিমকে দিনে একাধিকবার পরিস্থিতির আপডেট দিতে হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রেও প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি নেওয়া হচ্ছে।

    সামনে কি স্বস্তি?

    ২৩ আগস্ট বিপির কার্গো এলে এক্সিলারেটের টার্মিনাল আবার চালু হতে পারে। এতে গ্যাস সরবরাহ কিছুটা বাড়বে। কিন্তু একটি কার্গো এলেই যে দীর্ঘদিনের সংকট পুরোপুরি কেটে যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

    কারণ সংকটটি এখন শুধু একটি টার্মিনালের আগুনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।

    এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এলএনজি সংগ্রহ, কার্গো সরবরাহ, ক্রয় প্রক্রিয়া, টার্মিনাল পরিচালনা এবং সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের প্রশ্ন। যার সমাধান একটি দূরদর্শী দীর্ঘমেয়াদী ব্যবস্থাপনা ছাড়া কঠিন হবে।

    React:

    Leave a Comment

    Your email address will not be published.

    Theme by Jhinai Technologies