Skip to content
November 8, 2026
হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নতুন নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল: কতটা কার্যকর হবে?
দুনিয়াচিত্র

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নতুন নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল: কতটা কার্যকর হবে?

In This Article

    আল জাজিরা ।। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি প্রবেশপথ হরমুজ প্রণালির আশপাশে নতুন একটি নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে ইরান। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথকে ঘিরে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে জাহাজে হামলা ও পাল্টা হামলা নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের অনেকে একে বিপজ্জনক মাত্রায় সংঘাতের বিস্তার হিসেবে দেখছেন।

    ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কয়েক মাস ধরে চলা সামরিক উত্তেজনা কিছুটা কমেছিল গত ১৭ জুন স্বাক্ষরিত ৬০ দিনের একটি সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে। তবে সেই সমঝোতার মেয়াদ গত মাসে শেষ হওয়ার পর আবারও দুই পক্ষের মধ্যে হামলা শুরু হয়েছে।

    সাম্প্রতিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু হরমুজ প্রণালি। প্রণালির মধ্য দিয়ে যাওয়া তেলবাহী জাহাজকে পাহারা দেওয়া ও সেগুলোকে নিরাপদে পার করে দেওয়ার দায়িত্বে থাকা মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোকে ইরান লক্ষ্যবস্তু করেছে। অন্যদিকে ইরানকে চাপে রাখতে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ জোরদার করেছে, যার ফলে ইরানের তেল রপ্তানি ও অন্যান্য বাণিজ্য মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

    ৬০ দিনের সমঝোতা ভেঙে যাওয়ার পেছনে অন্যতম বড় বিরোধ ছিল হরমুজ প্রণালির ওপর চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ কার থাকবে তা নিয়ে। যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইরান দীর্ঘদিন ধরেই এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথকে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আসছে।

    যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাসের সরবরাহ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেত। ফলে এখানে সামান্য অস্থিরতাও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও বিশ্ব বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

    ইরানের প্রস্তাবিত নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল কোথায়?

    ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই বলেছেন, কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের ঘোষণা দেওয়া হবে।

    ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত অঞ্চলটি শুরু হবে হরমুজ প্রণালির দিকে থাকা মার্কিন নৌ অবরোধের সীমারেখা থেকে। সেখান থেকে এটি পারস্য উপসাগরের একটি বিস্তৃত অংশজুড়ে থাকবে এবং প্রণালির দিকেও বিস্তৃত হবে।

    রেজাইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, এই নতুন অঞ্চলে প্রবেশকারী যেকোনো জাহাজকে ইরানের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

    তবে এই ঘোষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইরান এখনো ওই অঞ্চলের সুনির্দিষ্ট সীমানা, সেখানে কী ধরনের বিধিনিষেধ কার্যকর হবে এবং নিষেধাজ্ঞার তালিকায় পড়লে জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে ঠিক কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা স্পষ্ট করেনি।

    রেজাই আরও জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালির জন্য নতুন নৌপথের মানচিত্র তৈরির কাজ ইরান ও ওমান যৌথভাবে করেছে। এসব মানচিত্র শিগগিরই অনুমোদন করা হতে পারে।

    ইরানের দাবি, নতুন একটি আন্তর্জাতিক নৌ করিডরের বিষয়ে ওমানের সঙ্গে তাদের সমঝোতা হয়েছে। করিডরটির কিছু অংশ ইরান ও ওমানের আঞ্চলিক জলসীমার মধ্য দিয়ে যাবে এবং সেখানে ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ইরানের হাতে থাকবে।

    রেজাই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে “নাশকতা, হুমকি ও হামলা” বন্ধ না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খোলা রাখার নিশ্চয়তা দেবে না তেহরান।

    এর আগে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি জানিয়েছিলেন, হরমুজ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের জন্য ইরান ও ওমান একটি অস্থায়ী নৌপথে একমত হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই পথের প্রবেশপথ ইরানের আঞ্চলিক জলসীমার মধ্য দিয়ে এবং বের হওয়ার পথের একটি অংশও ইরানের জলসীমার মধ্য দিয়ে হবে।

    যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক মহলের প্রতিক্রিয়া কী?

    ইরানের নতুন নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল ঘোষণার পরিকল্পনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা আন্তর্জাতিক মহল থেকে এখনো সরাসরি বড় কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

    তবে এর আগেই ইরানের গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি দাবি যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরানের দাবি ছিল, একটি মার্কিন জাহাজ তেহরানের নির্ধারিত নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করেছিল এবং সেটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।

    মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স এই দাবি সরাসরি অস্বীকার করে একে “সম্পূর্ণ মিথ্যা” বলে অভিহিত করেছেন।

    এই অভিযোগের কয়েক দিন আগেই যুক্তরাষ্ট্র তিনটি ইরানি তেলবাহী জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল। এর জবাবে ইরানও কয়েকটি ট্যাংকারে হামলা চালায় এবং হরমুজের কাছে টহলরত মার্কিন যুদ্ধজাহাজের দিকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে।

    ইরান কি এর আগেও জাহাজ চলাচলের পথ নির্ধারণ করেনি?

    করেছে। হরমুজ প্রণালিতে কোন পথে জাহাজ চলাচল করবে, তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা ইরান আগেই শুরু করেছে।

    এপ্রিল মাসে ইরান একটি অনুমোদিত নৌপথের মানচিত্র প্রকাশ করে। যুদ্ধের আগে জাহাজগুলো যে পথে চলাচল করত, তার তুলনায় এই নতুন পথ ইরানের উপকূলের অনেক বেশি কাছে।

    তবে ইরানের এই উদ্যোগকে চ্যালেঞ্জ করেছে ওমানের কাছাকাছি একটি বিকল্প নৌপথ।

    জুন মাসে ওমান আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা বা আইএমওর সহযোগিতায় হরমুজ প্রণালির দক্ষিণাংশ দিয়ে একটি বিকল্প করিডর নির্ধারণ করে। এর উদ্দেশ্য ছিল প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচল পুনরুদ্ধার করা।

    এরপর লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী তেলবাহী জাহাজ ‘স্টোয়িক ওয়ারিয়র’ ওই বিকল্প পথ ব্যবহার করে। জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানের উপকূলের কাছ দিয়ে এগিয়ে মুসান্দাম উপদ্বীপ ঘুরে যায়।

    ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি এই পথের বিরোধিতা করে। তাদের বক্তব্য ছিল, ইরানের নির্ধারিত পথই হরমুজ প্রণালির একমাত্র অনুমোদিত নৌপথ। ইরানের অনুমতি ছাড়া অন্য কোনো পথে চলাচলকে তারা “অগ্রহণযোগ্য এবং অত্যন্ত বিপজ্জনক” বলে সতর্ক করে।

    জুনে জেনেভায় স্বাক্ষরিত ১৪ দফার সমঝোতা স্মারকের পর হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কিছুটা বেড়েছিল। কিন্তু নতুন করে হামলা শুরু হওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ ও এর আশপাশে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল আবারও ব্যাপকভাবে কমে গেছে।

    ওই সমঝোতা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ৩০ দিনের মধ্যে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করতে সম্মত হয়েছিল। আর ইরানের প্রতিশ্রুতি ছিল হরমুজ প্রণালিতে পাতা মাইন সরিয়ে ফেলা এবং ৬০ দিনের জন্য কোনো ধরনের ফি ছাড়াই জাহাজ চলাচলের সুযোগ দেওয়া।

    বর্তমানে হরমুজ দিয়ে কতটা জাহাজ চলাচল করছে?

    হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি। তবে সংঘাতের আগের তুলনায় জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

    সংঘাত শুরুর আগে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হতো। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট রোববার সাংবাদিকদের বলেছেন, বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ৯০ লাখ ব্যারেলের বেশি তেল হরমুজ দিয়ে পার হচ্ছে।

    হরমুজ এড়িয়ে যেসব পাইপলাইন ব্যবহার করা হচ্ছে, সেগুলোও হিসাবের মধ্যে ধরলে সংঘাতের আগের তুলনায় মোট তেল সরবরাহের পরিমাণ প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ বা তারও বেশি রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

    রাইটের বক্তব্য, ইরান এখনো নৌ চলাচলে সমস্যা তৈরি করছে, কিন্তু এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।

    যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস বা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, আগের ৪৮ ঘণ্টায় ৫৯টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে।

    অন্যদিকে ইরান দাবি করছে, প্রণালির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ এখনো কার্যকর এবং জাহাজ চলাচল বাড়ছে বলে যে ধারণা তৈরি করা হচ্ছে, তা সঠিক নয়।

    বিভিন্ন সামুদ্রিক ট্র্যাকিং সংস্থার তথ্যও পরিস্থিতিকে বেশ জটিল চিত্র হিসেবে তুলে ধরছে। কিছু তথ্য অনুযায়ী, বুধবার মাত্র ছয়টি জাহাজ, মঙ্গলবার ১১টি এবং তার আগের সোমবার পাঁচটি জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করেছে। গত ১০ দিনে প্রতিদিন গড়ে জাহাজ চলাচলের সংখ্যা ছিল মাত্র ১৩টি।

    সামুদ্রিক তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের হিসাব অনুযায়ী, গত ১০ দিনে প্রতিদিন গড়ে মাত্র ১০টি পণ্যবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে, যা মে মাসের পর সর্বনিম্ন।

    ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার আগে প্রতিদিন ১৩০টির বেশি জাহাজ অবাধে এই জলপথ ব্যবহার করত।

    বর্তমানে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সঙ্গে আলোচনা করছে। এদিকে যুদ্ধ শুরুর সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে প্রধান কারণ হিসেবে তুলে ধরেছিল, সাম্প্রতিক সময়ে সেই বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্র থেকে অনেকটাই সরে গেছে।

    ইরান কি সামরিক শক্তি দিয়ে নতুন অঞ্চল কার্যকর করতে পারবে?

    ইরান এরই মধ্যে দেখিয়েছে যে তারা হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলকে বিপজ্জনক করে তুলতে পারে। এর ফলে অনেক জাহাজকে এই জলপথ এড়িয়ে চলতে হচ্ছে। মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৯ জন নাবিক নিহত হয়েছেন এবং কয়েক ডজন জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে।

    কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, ইরান একইভাবে একটি অনেক বড় নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল সামরিকভাবে কার্যকর করতে পারবে। বিশেষ করে যেসব জাহাজের নিরাপত্তায় মার্কিন সামরিক বাহিনী সরাসরি যুক্ত থাকবে, সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া তেহরানের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

    যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সান ফ্রান্সিসকোর মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক গবেষক স্টিফেন জুনেস মনে করেন, হরমুজের কাছে এত বড় একটি নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল বাস্তবে কার্যকর করা ইরানের জন্য কঠিন হবে।

    তাঁর মতে, এই অঞ্চল কার্যকর করতে ইরানের যুদ্ধজাহাজ বা বিমান মাঠে নামলে সেগুলো মার্কিন হামলার জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে।

    তবে জুনেসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইরানের এই ঘোষণা কেবল সামরিক পদক্ষেপের ঘোষণা নাও হতে পারে। এর মাধ্যমে তেহরান হয়তো জাহাজ চলাচলকারী কোম্পানিগুলোকে একটি বার্তা দিতে চাইছে যে, ইরানের অনুমোদন ছাড়া হরমুজ দিয়ে চলাচল করলে এখনো বড় ধরনের ঝুঁকি রয়েছে।

    আরেকটি সম্ভাবনাও তিনি দেখছেন। ইরান হয়তো এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইছে, যাতে যুক্তরাষ্ট্র আরও বড় সামরিক প্রতিক্রিয়া দেখাতে বাধ্য হয়। তাতে ইরান উপসাগরীয় দেশগুলো এবং ওই অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটির বিরুদ্ধে নিজেদের হামলার রাজনৈতিক যুক্তি আরও শক্তিশালী করতে পারবে।

    এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে জনমত নেতিবাচক হলে তা তেহরানের জন্য রাজনৈতিক সুবিধা তৈরি করতে পারে। একই সময়ে দেশের ভেতরে অর্থনৈতিক সংকট বাড়তে থাকায় বিদেশি হামলার বিরুদ্ধে জনগণকে আরও ঐক্যবদ্ধ করার সুযোগও পেতে পারে ইরান।

    ওমানের সঙ্গে সমঝোতাই কি আসল চাবিকাঠি?

    জুনেসের মতে, ইরানের নতুন নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাটি ওমানের সঙ্গে তাদের চলমান নৌপথ-সংক্রান্ত সমঝোতার সঙ্গেও সম্পর্কিত হতে পারে।

    ওমানের সঙ্গে প্রস্তাবিত নতুন নৌপথ যদি বাস্তবসম্মত হয় এবং যুক্তরাষ্ট্রও সেটি মেনে নিতে পারে, তাহলে ইরান শেষ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল কার্যকর করার পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে পারে।

    কিন্তু সেই সমঝোতা যদি কার্যকর না হয়, তাহলে তেহরানের হাতে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আরও চাপ তৈরির একটি প্রস্তুত বিকল্প থাকবে।

    অর্থাৎ হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নতুন “নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল” শুধু একটি সামরিক ঘোষণা হিসেবে দেখলে বিষয়টির পুরো চিত্র ধরা পড়ে না। এর মধ্যে রয়েছে নৌপথ নিয়ন্ত্রণ, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ সৃষ্টি, ওমানের সঙ্গে সমঝোতা এবং আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে বৃহত্তর কূটনৈতিক দরকষাকষি।

    তবে শেষ পর্যন্ত এই পরিকল্পনা কতটা বাস্তবায়নযোগ্য হবে, তা নির্ভর করবে ইরান কতদূর যেতে প্রস্তুত এবং যুক্তরাষ্ট্র সেই পদক্ষেপের জবাবে কতটা সামরিক ঝুঁকি নিতে রাজি তার ওপর। হরমুজ প্রণালির মতো বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডরে সামান্য ভুল হিসাবও যে বড় আকারের আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে, বর্তমান পরিস্থিতি তারই একটি স্পষ্ট উদাহরণ।

    React:

    Leave a Comment

    Your email address will not be published.

    Theme by Jhinai Technologies