বহুল আলোচিত ‘থ্রি ইডিয়টস’ সিনেমার সিক্যুয়েল নিয়ে ভক্তদের জন্য বড় সুখবর দিয়েছেন নির্মাতা রাজকুমার হিরানি। তিনি জানিয়েছেন, ছবিটির দ্বিতীয় কিস্তিতে প্রথম সিনেমার মূল অভিনয়শিল্পীরাই থাকছেন। তবে সিনেমার গল্প ও চিত্রনাট্যের কাজ এখনো শেষ হয়নি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এএনআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হিরানি বলেন, তাদের দল এখনো গল্প নিয়ে কাজ করছে। চিত্রনাট্য নিয়ে পুরোপুরি সন্তুষ্ট হওয়ার পরই তারা ‘থ্রি ইডিয়টস ২’ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এগোতে চান।
হিরানির কথায়, গল্প লেখার কাজ চলছে এবং এখনই সিনেমাটি নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলার সময় আসেনি। তবে তিনি একটি বিষয় স্পষ্ট করেছেন, সিক্যুয়েলের অভিনয়শিল্পীদের ক্ষেত্রে বড় কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না।
নতুন গল্প থেকেই সিক্যুয়েলের ভাবনা
‘থ্রি ইডিয়টস ২’ নিয়ে সবচেয়ে কৌতূহলোদ্দীপক তথ্যগুলোর একটি হলো, সিক্যুয়েলের গল্পটি শুরুতে এই সিনেমার জন্য লেখা হয়নি।
হিরানি জানান, তারা অন্য একটি সিনেমার গল্প নিয়ে কাজ করছিলেন। লেখার একপর্যায়ে তাদের মনে হয়, সেই গল্পটি ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর পরিচিত চরিত্রগুলোর জীবনের সঙ্গে আশ্চর্যজনকভাবে মিলে যাচ্ছে।
এরপরই সেই গল্পকে ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর দ্বিতীয় কিস্তির জন্য উপযোগী করে ভাবার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
অর্থাৎ সিক্যুয়েলের গল্পটি প্রথম সিনেমার কাহিনিকে সরাসরি অনুসরণ করে তৈরি হচ্ছে না। বরং নতুন একটি গল্পের সঙ্গে পুরোনো চরিত্রগুলোর জীবনকে যুক্ত করেই এগোতে চাইছেন নির্মাতারা।
এবার আর কলেজজীবন নয়
২০০৯ সালে মুক্তি পাওয়া ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর মূল গল্প আবর্তিত হয়েছিল তিন বন্ধুর কলেজজীবন, শিক্ষা ব্যবস্থা এবং জীবনের লক্ষ্য নিয়ে। সিক্যুয়েলে সেই একই সময়ের গল্পে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা নেই।
বরং প্রথম সিনেমার ঘটনাগুলোর প্রায় দুই দশক পর এই চরিত্রগুলোর জীবনে কী ঘটেছে, সেটিই হবে নতুন কাহিনির কেন্দ্র।
হিরানি জানিয়েছেন, এবার গল্পের কেন্দ্রে থাকবে না শিক্ষার্থীদের জীবন। দর্শক দেখবেন দুই দশক পর র্যাঞ্চো, ফারহান ও রাজুর জীবন কোথায় এসে দাঁড়িয়েছে এবং তাদের জীবনে কী পরিবর্তন ঘটেছে।
এ কারণে নতুন সিনেমাটি প্রথম কিস্তির পুনরাবৃত্তি না হয়ে পরিচিত চরিত্রগুলোর পরবর্তী জীবনের একটি নতুন অধ্যায় হয়ে উঠতে পারে।
ফিরছেন আমির, মাধবন ও শারমান
সিক্যুয়েলের কাস্ট নিয়ে হিরানি কোনো অভিনেতার নাম আলাদাভাবে উল্লেখ না করলেও তিনি পরিষ্কারভাবে বলেছেন, অভিনয়শিল্পীরা অপরিবর্তিত থাকবেন।
প্রথম সিনেমায় আমির খান র্যাঞ্চো, আর মাধবন ফারহান এবং শারমান জোশী রাজুর চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। তিন বন্ধুর এই বন্ধুত্বই ছিল সিনেমাটির অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। কারিনা কাপুর ও বোমান ইরানিও প্রথম কিস্তিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে ছিলেন।
হিরানির বক্তব্যের পর স্বাভাবিকভাবেই দর্শকদের মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে যে, পরিচিত সেই চরিত্রগুলোকে আবারও একই অভিনয়শিল্পীদের মাধ্যমে পর্দায় দেখা যাবে।
তবে এখনো অনেকটা পথ বাকি
মূল কাস্ট অপরিবর্তিত থাকার খবর নিঃসন্দেহে ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর ভক্তদের জন্য বড় আনন্দের। কিন্তু সিনেমাটি কবে শুটিংয়ে যাবে বা কবে মুক্তি পাবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত তথ্য দেননি হিরানি।
কারণ প্রকল্পটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ, অর্থাৎ গল্প ও চিত্রনাট্য এখনো লেখার পর্যায়েই রয়েছে। নির্মাতার বক্তব্য থেকে পরিষ্কার, গল্পটি নিজেদের প্রত্যাশামতো পর্যায়ে না পৌঁছানো পর্যন্ত তারা প্রযোজনার পরবর্তী ধাপে যেতে চাইছেন না।
ফলে আপাতত ‘থ্রি ইডিয়টস ২’ নিয়ে নিশ্চিতভাবে বলা যায় দুটি বিষয়। এক, প্রথম সিনেমার মূল কাস্টই ফিরছে। দুই, গল্পের সময়কাল এগিয়ে যাবে প্রায় ২০ বছর।
এখন অপেক্ষা, সেই নতুন গল্প কীভাবে র্যাঞ্চো, ফারহান ও রাজুকে আবার একই পর্দায় ফিরিয়ে আনে।
