Skip to content
November 8, 2026
পৈতৃক পেশা ছাড়ছেন যমুনা তীরের জেলেরা
কৃষিচিত্র

পৈতৃক পেশা ছাড়ছেন যমুনা তীরের জেলেরা

In This Article

    স্টাফ রিপোর্টার||

    জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার যমুনা নদীর পাড়ের গুঠাইল পাইলিং পার এলাকায় চলছে জেলেদের নিজেদের দীর্ঘদিনের পেশা ছেড়ে যাওয়ার হিড়িক।

    উপজেলার চিনাডুলী ইউনিয়নের গুঠাইল যমুনা নদীর বাম তীরে গড়ে উঠেছে জেলে পল্লী, এখানে বসবাস করছে প্রায় ৮০ টি পরিবার, যাদের মূল পেশা নদীতে মাছ শিকার করে বাজারে বিক্রি করা।

    জলবায়ু পরিবর্তন ও নদীতে পানি কমে যাওয়ায় নদীতে মাছ কমে গেছে, যার ফলে বাপদাদার পেশা এখন টিকিয়ে রাখা দায় জেলেদের।

    জীবিকার তাগিদে, গুঠাইল জেলে পল্লীর শ্রী মোহন চন্দ্র দাস, পুলক দাস, রমণী দাস সহ আরও কয়েকজন জেলে জাল ছেড়ে এখন ইজিবাইক চালাচ্ছেন।

    তাদের মতো আরও অনেক জেলে প্রস্তুতি নিয়েছেন অন্য পেশায় গিয়ে জীবিকা নির্বাহ করার।

    গুঠাইল পাইলিং পারে জেলে নবীন চন্দ্র দাস (৫৬) বলেন, নদ-নদীতে তেমন মাছ নেই। জালে মাছ উঠছে না। তারা নিরুপায় হয়ে পড়েছেন। সংসার ঠিক মতো চালাতে পারছেন না, মাছ ধরে। তাই বাধ্য হয়েই অনেকে পৈতৃক পেশা ছেড়ে দিয়ে অন্য পেশায় যোগদান করে আয় করছেন। অনেকেই প্রস্তুতি নিয়েছেন পৈতৃক পেশা ছেড়ে দেবেন। নদ-নদীতে মাছ না থাকায় আমাদের কষ্ট বেড়ে গেছে। আমাদেরকে অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটাতে হচ্ছে।

    উপজেলার ফকিরপাড়া ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী এলাকার আপন চন্দ্র দাস (৩৬) বলেন, জালের সাথে আমাদের নিবিড় সম্পর্ক কিন্তু জাল দিয়ে আর সংসার চালানো যাচ্ছে না, তাই বাধ্য হয়ে অন্য পেশা আয় করার চেষ্টা করছি।

    ইসলামপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, দিন দিন পেশাদার জেলের সংখ্যা কমে আসছে। জেলেরা কারেন্ট জাল দিয়ে মাছের পোনা শিকার করার কারণে নদ-নদীতে মাছের বৃদ্ধি হচ্ছে না । তাদেরকে সচেতন করা হচ্ছে, সরকারিভাবে যতটুকু প্রণোদনা আসে ততটুকু তাদের মাঝে বণ্টন করা হয়।

    ইসলামপুর উপজেলা যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, দশআনি,হলহলিয়া বিল সহ ৬টি নদ-নদীর পাড়ে প্রায় ১৮০টি জেলে পল্লী রয়েছে। এসব জেলে পল্লীতে প্রায় ২৬শ পরিবারের বসবাস করে এদিকে ৩রা অক্টোবর থেকে শুরু হয়েছে ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞা, সরকারি ভাবে জেলে পরিবারগুলোতে খাদ্য সহায়তা করার কথা রয়েছে।

    প্রতি বছর নিষেধাজ্ঞার সময় ২০ কেজি চাল বিতরণ করা হয় প্রতিটি পরিবারেরর মাঝে, যা যথেষ্ট নয় বলে জানিয়েছেন জেলে পরিবারগুলো। তাদের দাবি, সহায়তা বৃদ্ধি সহ জেলেদের প্রশিক্ষনের মাধ্যমে জেলের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষে ভূমিকা পালন করবে সংশ্লিষ্ট কৃর্তপক্ষ এমনটাই দাবি পরিবারেরগুলোর।

    React:

    Leave a Comment

    Your email address will not be published.

    Theme by Jhinai Technologies