Skip to content
November 8, 2026
কেন গাজা সত্যিকার শান্তির আশায় সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে?
অগোছালো

কেন গাজা সত্যিকার শান্তির আশায় সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে?

In This Article

    সারা আওয়াদ ।।

    স্থলে হয়তো যুদ্ধবিরতি এসেছে, কিন্তু অবরোধ শেষ হয়নি। তাই এখনো আমাদের দরকার স্বাধীনতার জাহাজগুলো — সেই ফ্লোটিলাগুলো।

    অক্টোবরের ১০ তারিখে গাজায় আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলো। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো তখন একে “শান্তিচুক্তি” নামে প্রচার করতে শুরু করে। জানানো হলো—মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কায়রো যাচ্ছেন চুক্তি তদারকি করতে, এরপর ইসরায়েলের পার্লামেন্টে (কনেসেট) বক্তব্য দেবেন। সংবাদে বলা হয়, গাজার আকাশে বোমাবর্ষণ থেমে গেছে।

    হ্যাঁ, বোমা পড়া বন্ধ হয়েছে—কিন্তু আমাদের কষ্ট থামেনি। আমাদের বাস্তবতা এখনো বদলায়নি।
    আমরা এখনো অবরুদ্ধ।
    ইসরায়েল এখনো নিয়ন্ত্রণ করছে আমাদের আকাশ, স্থল ও সমুদ্র।
    তারা এখনো অসুস্থ ও আহতদের বের হতে দিচ্ছে না, সাংবাদিক, মানবাধিকার তদন্তকারী কিংবা কর্মীদের ঢুকতেও বাধা দিচ্ছে।
    তারা এখনো নিয়ন্ত্রণ করছে কী খাবার, কী ওষুধ, কী সরঞ্জাম গাজায় ঢুকবে।

    এই অবরোধ চলছে টানা ১৮ বছর ধরে—আমাদের প্রতিটি মুহূর্ত এই ঘেরাটোপে কাটে। আমি মাত্র তিন বছর বয়স থেকে এই বন্দিদশায় বড় হয়েছি।
    এ কেমন শান্তি, যেখানে আমাদের মৌলিক স্বাধীনতাই নেই—যা পৃথিবীর প্রতিটি মানুষ স্বাভাবিকভাবে পায়?

    “শান্তিচুক্তি”র খবর ঢেকে দিলো আরেকটি ভয়াবহ খবরকে। ইসরায়েল আন্তর্জাতিক জলসীমায় গাজাগামী আরেকটি মানবিক সহায়তাবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে, জাহাজের ১৪৫ জনকে আটক করেছে—যা আন্তর্জাতিক আইনে অপরাধ। এর কয়েকদিন আগেই তারা ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ আটক করে, যেখানে ৪৫০ জন মানুষ গাজায় পৌঁছাতে চেয়েছিলেন।

    এই ফ্লোটিলাগুলো শুধু সাহায্য নিয়ে আসেনি—এগুলো এনেছিল স্বাধীনতার স্বপ্ন, এক সত্যিকারের শান্তির প্রতীক; যেখানে ফিলিস্তিনিরা আর অবরুদ্ধ থাকবে না, আর দখল কিংবা নির্বাসনের শিকার হবে না।

    অনেকে বলে, এসব জাহাজের কোনো লাভ হয় না—ওগুলো তো আগেই ধরা পড়ে যাবে। আমিও একসময় তেমনটাই ভাবতাম। এত হতাশ ছিলাম যে, যুদ্ধের শেষ দেখতে পারব—এই আশাও হারিয়ে ফেলেছিলাম।

    কিন্তু সব বদলে গেল, যখন ব্রাজিলের সাংবাদিক জিওভানা ভিয়াল আমার সাক্ষাৎকার নিলেন।
    তিনি আমার গল্প নিয়ে একটি প্রতিবেদন লেখেন, তারপর “সুমুদ ফ্লোটিলা”-তে যোগ দেন।
    পথে রওনা হয়ে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখলেন—“For Sara, we sail.” (“সারার জন্য আমরা যাত্রা শুরু করেছি।”)

    তার এই সাহসী কথাগুলো আমার ভেতরে এক অদ্ভুত আলো জ্বেলে দিল।

    এরপর থেকে আমি প্রতিদিন ফ্লোটিলার খবর দেখতাম, প্রতিটি আপডেট অনুসরণ করতাম আশায় বুক বেঁধে। আত্মীয়-বন্ধুদের বলতাম—দেখো, এখনো এমন মানুষ আছে, যারা কখনো আমাদের দেশে আসেনি, তবুও নিজেদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে গাজার মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে।
    আমি বারবার ভাবতাম—এমন নিষ্ঠুর এক পৃথিবীতে এখনো কি সত্যিই এমন নিঃস্বার্থ মানুষ থাকতে পারে?

    জিওভানার সঙ্গে আমার যোগাযোগ ছিল। তিনি লিখেছিলেন,

    “আমার শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত আমি তোমাদের একা ফেলব না।”

    অন্ধকারের মধ্যে সেই এক লাইনই আমার আলোকবর্তিকা হয়ে উঠেছিল।

    দুই বছরের মধ্যে এই প্রথমবারের মতো মনে হলো—বিশ্ব আমাদের দেখছে, শুনছে।

    ‘সুমুদ ফ্লোটিলা’ ছিল এ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় মানবিক জাহাজ বহর। কিন্তু এর শক্তি সংখ্যায় নয়, বার্তায়।
    এটা ছিল গাজার দিকে বিশ্বদৃষ্টি ফেরানোর প্রতীক—যাতে আর কেউ চোখ ফিরিয়ে না নিতে পারে।

    ফ্লোটিলার অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে একটা পোস্টে লেখা ছিল,
    “All Eyes on Gaza.”
    আমি সেটা পড়েছিলাম এক ভীষণ ভয়ানক রাতে, যখন গাজার আকাশে বোমার শব্দ থামছিল না। কিছুক্ষণের মধ্যেই আমাকে আমার ঘর ছেড়ে পালাতে হয়েছিল।

    ইসরায়েল ফ্লোটিলাগুলো আটক করেছে, অংশগ্রহণকারীদের নির্যাতন ও বহিষ্কার করেছে, সাহায্যসামগ্রী জব্দ করেছে।
    তারা হয়তো জাহাজগুলোকে আমাদের উপকূলে পৌঁছাতে দেয়নি,
    কিন্তু তারা সেই বার্তাকে থামাতে পারেনি—
    শান্তির বার্তা, স্বাধীনতার বার্তা, মানবতার বার্তা।

    দুই বছর ধরে আমরা এই বার্তার অপেক্ষায় ছিলাম।
    জাহাজগুলো ধরা পড়েছে, কিন্তু তাদের সংহতি আমাদের কাছে পৌঁছে গেছে।

    আমি অন্তর থেকে কৃতজ্ঞ প্রতিটি মানুষের কাছে, যারা ফ্লোটিলাগুলোতে অংশ নিয়েছে।
    আমি চাই, একদিন তাদের প্রত্যেককে জানাতে—তাদের সাহস, তাদের উপস্থিতি, তাদের ভালোবাসা আমাদের জীবনে কত আলো এনেছে।
    আমরা তাদের কখনো ভুলব না।
    তাদের নাম, মুখ, কণ্ঠ—আমাদের হৃদয়ে অমর হয়ে থাকবে।

    যারা গাজার দিকে যাত্রা করেছেন—ধন্যবাদ।
    আপনারা আমাদের মনে করিয়ে দিয়েছেন—আমরা একা নই।

    আর এই পৃথিবীর কাছে আমার আহ্বান—
    আমরা এখনো আশায় বেঁচে আছি।
    আমাদের এখনো দরকার আরও অনেক ফ্লোটিলা, আরও সংহতি, আরও সাহস।
    এসো, আমাদের সাহায্য করো এই বন্দিদশা ভাঙতে।

    আজ বোমা পড়া বন্ধ,
    আমি শুধু প্রার্থনা করি—এবার যেন তা আবার না শুরু হয়।
    কিন্তু আমরা এখনো শান্তি পাইনি।

    সরকারগুলো আমাদের ব্যর্থ করেছে,
    কিন্তু মানুষ—মানুষ এখনো আমাদের পাশে আছে।

    একদিন আমি জানি, সেই স্বাধীনতার জাহাজগুলো সত্যিই গাজার উপকূলে ভিড়বে,
    আর আমরা হব মুক্ত।

    আল জাজিরা থেকে এআই অনুবাদ

    React:

    Leave a Comment

    Your email address will not be published.

    Theme by Jhinai Technologies