নয়ন আসাদ ||
কক্সবাজার; বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত, দেশের পর্যটনের এক প্রথমসারির গন্তব্য। ট্রেন সেবা চালু হওয়ার পর প্রচুর লোকসমাগম কক্সবাজার ঘিরে। সম্প্রতি সেই সৈকতে ট্রেনযোগে যাওয়ার সৌভাগ্য হল। সাগর সৈকতে গিয়ে বসেই সাগরের শব্দে হারানোর যে বাসনা তা ম্লান হয়ে গেল জেট স্কি নামে পরিচিত দ্রুতগতির জলযানের উটকো শব্দ ও পোড়া পেট্রলের গন্ধে। সরগরম সৈকতে সাগরের অনুভূতিকে উপভোগ করতে ব্যর্থ হলাম। তখন তেমনটা খেয়াল না করলেও পরদিন ভেজার সময় কয়েকবার এই জেট স্কি তুমুল শব্দ তুলে চলে গেল ঠিক কানের পাশ দিয়ে। এত নিকট দিয়ে যে পানির ঝাপটা গায়ে লাগলো বেশ। যাত্রীর হাতে মুল স্টিয়ারিং রেখে তা পেছন থেকে কোনমতে হাত বাকিয়ে ধরে আছে মূল চালক। আর তা তুমুল গতিতে ছুটে যাচ্ছে হাজারো পর্যটকের কানের কাছ দিয়ে এমন সৈকত কতটা নিয়ন্ত্রণহীন তা বুঝা গেল সহজেই। এভাবে দ্রুতগতির জেট স্কি পাশে দিয়ে যাওয়াটা সৈকতে এখন আতঙ্কের বিষয়।
নির্দিষ্ট স্পটে জেট স্ক ‘র মত রোমাঞ্চকর বিনোদন থাকাটা বিচকে যেখানে সমৃদ্ধ করতে পারত সেখানে হয়ে উঠেছে অনিরাপদ ও বিরক্তির কারণ। এমনিতেই যারা গিয়েছেন জানেন যে, এখানে ১টা মিনিট শান্ত হয়ে বসে থাকার জো নেই। ১ মিনিটের মধ্যে অন্তত ২০ জন মানুষকে আপনার না বলতে হবে, কেউ এসে জেট স্কি’তে উঠতে অনুরোধ করবে, কেউ এটিভিতে উঠতে অনুরোধ করবে, কেউ ছবি তুলতে, কেউ এটা-ওটা খাইতে…। এসব না, না করতে করতে আপনার সৈকতের যে ভালোলাগা তা ডাইভার্ট হয়ে যাবে বিপরীত দিকে। সেই সাথে জেটস্কির শব্দ ও ফুয়েলের গন্ধে সৈকতকে বিরক্তিকরও লেগে যেতে সময় লাগবে না। যা-ই হোক, সৈকতে জেট স্কি’র সংখ্যা যেমন বেড়েছে, পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে বেপরোয়া গতি এবং ভিড়ের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল। কখনো শিশুদের পাশ দিয়ে, কখনো সাঁতার কাটতে থাকা মানুষদের অল্প দূর ঘেঁষে চলে যাচ্ছে। এমন পরিবেশে দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা যেমন মনে হল, খোঁজ নিয়ে দেখা গেল বেশ অনেকবারই ঘটেছে দূর্ঘটনা নিহত ও আহত হয়েছেন অনেকেই। কিন্তু তারপর সম্ভবত কয়েকদিন বন্ধ থেকে ফের সচল হয়েছে এই সিন্ডিকেট। সম্ভবত সবাইকে ম্যানেজ করেই।
এমন একটি বৃহত্তম সমুদ্র সৈকতে কিছু মৌলিক নিরাপত্তা নীতিমালা কেন প্রতিপালন হচ্ছে না তা বোধগম্য নয়। জেট স্কি’র এমন বেপরোয়া চলাচল বন্ধে তার অবিলম্বে প্রয়োজন নির্দিষ্ট রাইডিং জোন, গতি নির্দেশিকা, চালকের লাইসেন্স, এবং জরুরি উদ্ধার-প্রস্তুতির মত ব্যবস্থাপনা। কিন্তু বাস্তবতা হলো, কক্সবাজারে এসব দেখার কেউ আছে বলে মনে হয় নি। এই বাস্তবতায় এখনই জরুরি হলো এই বিষয়টিকে শক্ত তদারকির আওতায় আনা। আশা করি কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।
Feature Image: The Financial Express




