Skip to content
November 8, 2026
হরমুজ-পরবর্তী যুগে আফ্রিকার সামনে নতুন ভূরাজনৈতিক সুযোগ
দুনিয়াচিত্র

হরমুজ-পরবর্তী যুগে আফ্রিকার সামনে নতুন ভূরাজনৈতিক সুযোগ

In This Article

    রাফায়েল শিখানি ||

    হরমুজ প্রণালিতে চলমান অচলাবস্থার কারণে আফ্রিকার অর্থনীতিগুলো বড় ধরনের ধাক্কা খাচ্ছে। অথচ জ্বালানি ও অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদের বিপুল ভাণ্ডার রয়েছে এই মহাদেশে। চার বছর আগে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময়ও একই ধরনের অভিঘাত দেখা গিয়েছিল।

    আমরা এখন এমন এক সময়ের দিকে এগোচ্ছি, যাকে বলা যেতে পারে ‘হরমুজ-পরবর্তী যুগ’। এমন এক সময়, যখন বৈশ্বিক ব্যবস্থা আর কোনো একক সামুদ্রিক সংকটপথের ওপর নির্ভরশীল থাকবে না। এই পরিবর্তন আফ্রিকার সামনে একটি বিরল সুযোগ তৈরি করেছে। মহাদেশটি চাইলে বিশ্ব রাজনীতির প্রান্তিক অবস্থান থেকে বেরিয়ে এসে নিজের ভূরাজনৈতিক গুরুত্বকে নতুনভাবে প্রতিষ্ঠা করতে পারে।

    এতদিন আফ্রিকা মূলত সম্পদের জোগানদাতা এবং অন্য ভূখণ্ডে নেওয়া কৌশলগত সিদ্ধান্তের প্রাপক হিসেবে থেকেছে। এখন সময় এসেছে সেই অবস্থান বদলানোর। আফ্রিকা চাইলে নিজের ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা নিজেই নির্মাণ করতে পারে।

    সমুদ্র নিয়ে আফ্রিকার ভয়

    এই রূপান্তরের প্রথম শর্ত হলো আফ্রিকার রাষ্ট্রগুলোর দীর্ঘদিনের এক মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসা। একে বলা যেতে পারে ‘থ্যালাসোফোবিয়া’, অর্থাৎ সমুদ্রকে মূলত একটি ভৌগোলিক সীমারেখা হিসেবে দেখার প্রবণতা, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তি প্রদর্শনের ক্ষেত্র হিসেবে নয়।

    দীর্ঘদিন আফ্রিকার নিরাপত্তা-চিন্তা মূলত স্থলভিত্তিক ছিল। স্বাধীনতার সংগ্রাম, গৃহযুদ্ধ, বিদ্রোহ, সামরিক অভ্যুত্থান কিংবা সীমান্ত সংঘাতই তাদের কৌশলগত ভাবনার বড় অংশজুড়ে ছিল। সমুদ্র থেকে গেছে অনেকটাই প্রান্তিক। ফলে আফ্রিকায় স্থলভিত্তিক নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তর চিন্তা হলেও সামুদ্রিক শক্তি, নীল অর্থনীতি, সমুদ্রপথ এবং নৌ-ক্ষমতা নিয়ে তুলনামূলকভাবে খুব কম পরিকল্পনা হয়েছে।

    এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরেকটি সমস্যা। আফ্রিকার দেশগুলো প্রায়ই একটি অভিন্ন মহাদেশীয় কৌশল গ্রহণের রাজনৈতিক, আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যয় বহন করতে অনিচ্ছুক। তারা সমন্বিত পরিকল্পনার বদলে নিজেদের জাতীয় স্বার্থকে কেন্দ্র করে বিচ্ছিন্নভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে।

    এর পেছনে কয়েকটি কাঠামোগত কারণ রয়েছে।

    প্রথমত, সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন। ঔপনিবেশিক শাসন থেকে পাওয়া সীমান্ত এবং ভূখণ্ডের অখণ্ডতাকে আফ্রিকার স্বাধীন রাষ্ট্রগুলো তাদের রাজনৈতিক ব্যবস্থার অন্যতম মৌলিক ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছে। ১৯৬৩ সালে প্রতিষ্ঠিত অর্গানাইজেশন অব আফ্রিকান ইউনিটি এবং পরবর্তীকালে আফ্রিকান ইউনিয়নের কাঠামোতেও এই নীতির প্রতিফলন রয়েছে।

    কিন্তু একটি অভিন্ন সামুদ্রিক কৌশল বাস্তবায়নের জন্য দেশগুলোকে নিজেদের কিছু সার্বভৌম ক্ষমতা ভাগাভাগি করতে হবে। সমুদ্রসীমা ও অর্থনৈতিক অঞ্চলের ব্যবস্থাপনা, সামরিক অভিযানের নিয়ম, যৌথ কমান্ড এবং সংবেদনশীল গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের মতো বিষয় এতে জড়িত।

    দ্বিতীয়ত, আফ্রিকার সামুদ্রিক বাস্তবতা এক নয়। মহাদেশটির বিভিন্ন উপকূলে সমস্যার ধরনও ভিন্ন। গিনি উপসাগরে জলদস্যুতা ও অপরিশোধিত তেল চুরি বড় সমস্যা। পশ্চিম ভারত মহাসাগরে অবৈধ মাছ ধরা ও চোরাচালান গুরুত্বপূর্ণ হুমকি। আবার ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে অভিবাসন বড় ইস্যু।

    এত ভিন্ন অগ্রাধিকারকে একটি অভিন্ন নীতির আওতায় আনা কঠিন। ফলে বিভক্ত থাকাই সহজ পথ হয়ে দাঁড়ায়।

    তৃতীয়ত, অর্থ ও সক্ষমতার সংকট। নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, নজরদারি ব্যবস্থা, গোয়েন্দা সক্ষমতা ও সামুদ্রিক লজিস্টিক অবকাঠামো গড়ে তোলা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। অধিকাংশ আফ্রিকান রাষ্ট্র এককভাবে এই ব্যয় বহন করতে পারে না। আর যেহেতু সামুদ্রিক নিরাপত্তা অনেকটা একটি যৌথ সুবিধা, তাই প্রতিটি দেশেরই অন্যরা খরচ করবে, আর সে সুবিধা ভোগ করবে—এমন প্রবণতা তৈরি হয়।

    চতুর্থত, এবং সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ, নিরাপত্তার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা বিদেশি শক্তির ওপর। আন্তর্জাতিক মিশন, সামরিক ঘাঁটি কিংবা দ্বিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে বিদেশি নৌবাহিনীগুলো আফ্রিকার জলসীমায় দীর্ঘদিন ধরে উপস্থিত। ফলে অনেক ক্ষেত্রে সামুদ্রিক নিরাপত্তার দায়িত্ব কার্যত বাইরের শক্তির হাতে চলে গেছে। এতে নিজেদের সক্ষমতা গড়ে তোলার তাগিদও কমে যায়।

    পঞ্চমত, আফ্রিকার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অভিজাতদের একটি অংশ আঞ্চলিক একীভূতকরণের চেয়ে বিদেশি শক্তির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক থেকে বেশি সুবিধা পায়। ফলে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সুবিধার প্রবাহ ভেতর থেকে ভেতরে না গিয়ে বাইরে থেকে আফ্রিকার দিকে আসে।

    এর সঙ্গে যোগ হয় বিদ্রোহ, সীমান্ত বিরোধ, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং অন্যান্য সংকট। এসব সমস্যা রাষ্ট্রীয় বাজেট ও রাজনৈতিক মনোযোগের বড় অংশ দখল করে নেয়। সমুদ্রের বিষয়টি তাই বারবার ‘পরে দেখা যাবে’ ধরনের অগ্রাধিকারে পরিণত হয়।

    কেন আফ্রিকার প্রয়োজন ভূরাজনৈতিক সচেতনতা

    আফ্রিকায় সমুদ্র এখনো অনেকাংশে রাজনৈতিকভাবে অদৃশ্য। কোনো আন্তর্জাতিক সংকট যখন বৈশ্বিক সমুদ্রপথের ওপর আফ্রিকার নির্ভরশীলতা সামনে নিয়ে আসে, তখনই সমুদ্র হঠাৎ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

    ফলে মহাদেশটির বিপুল কৌশলগত সম্পদ—তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, জ্বালানি রূপান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং আটলান্টিক, ভারত মহাসাগর ও ভূমধ্যসাগরকে যুক্ত করার অনন্য ভৌগোলিক অবস্থান—আফ্রিকাকে কাঙ্ক্ষিত ভূরাজনৈতিক স্বাধীনতা এনে দিতে পারেনি।

    এই দীর্ঘস্থায়ী পরিস্থিতি থেকে বের হতে হলে আফ্রিকাকে নিজের ভূরাজনৈতিক পরিসর নিজেকেই তৈরি করতে হবে। এর অর্থ হলো সামুদ্রিক নিরাপত্তা, অবকাঠামো, জ্বালানি, উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থা, শিল্প সংহতি, পররাষ্ট্রনীতি এবং সর্বোপরি কৌশলগত স্বনির্ভরতার ক্ষেত্রে মহাদেশীয় অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা।

    এই জায়গাতেই ‘হরমুজ-পরবর্তী যুগ’ ধারণাটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

    এর অর্থ এমন একটি বৈশ্বিক ব্যবস্থায় প্রবেশ, যেখানে কোনো একটি জ্বালানি-চোকপয়েন্ট পুরো বিশ্ব অর্থনীতির নিরাপত্তা নির্ধারণ করবে না। বরং হরমুজ, বাব আল-মান্দেব, লোহিত সাগর, সুয়েজ খাল, মোজাম্বিক চ্যানেল, কেপ অব গুড হোপ, পশ্চিম ভারত মহাসাগর এবং ভবিষ্যতে আর্কটিকসহ একাধিক কৌশলগত সমুদ্রপথ পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি বহুকেন্দ্রিক নেটওয়ার্ক তৈরি করবে।

    এই নেটওয়ার্কে আফ্রিকা আর কেবল বৈশ্বিক বাণিজ্য প্রবাহের মধ্য দিয়ে যাওয়া একটি মহাদেশ থাকবে না। বরং বিশ্বের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক করিডরগুলোর একটি কেন্দ্রীয় অংশ হয়ে উঠবে।

    আফ্রিকার সামুদ্রিক কৌশলের অভাব নেই। আফ্রিকান ইউনিয়ন ২০১৪ সালে ‘২০৫০ আফ্রিকা ইন্টিগ্রেটেড মেরিটাইম স্ট্র্যাটেজি’ গ্রহণ করেছে। ২০১৬ সালে গ্রহণ করেছে আফ্রিকান চার্টার অন মেরিটাইম সিকিউরিটি অ্যান্ড সেফটি। কিন্তু প্রথমটি এখনো মূলত বাস্তবায়নের অপেক্ষায় এবং দ্বিতীয়টিও কার্যকর হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক অনুমোদন পায়নি।

    অর্থাৎ সমস্যা কৌশলের অভাবে নয়, কৌশলকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার রাজনৈতিক ইচ্ছা ও সক্ষমতার অভাবে। ঘোষিত কৌশল আর বাস্তব কৌশলের মধ্যকার দূরত্বই আফ্রিকার সামুদ্রিক ভীতির সবচেয়ে বড় প্রমাণ।

    আফ্রিকার কী করা উচিত

    ভূরাজনৈতিক সচেতনতা তৈরি করতে হলে প্রথমেই আফ্রিকার রাজনৈতিক নেতৃত্বকে সমুদ্রকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে।

    যতদিন সমুদ্রকে শুধু সীমান্ত, পণ্য রপ্তানির পথ কিংবা বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপের ক্ষেত্র হিসেবে দেখা হবে, ততদিন নিজেদের সামুদ্রিক সক্ষমতায় বিনিয়োগের রাজনৈতিক সদিচ্ছা তৈরি হবে না।

    প্রথম পরিবর্তনটি তাই হতে হবে বুদ্ধিবৃত্তিক ও রাজনৈতিক। আফ্রিকাকে স্বীকার করতে হবে যে সমুদ্র আর মহাদেশের প্রান্তসীমা নয়; এটি আফ্রিকার শক্তি প্রদর্শনের অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র।

    এই উপলব্ধিকে প্রতিষ্ঠান, বাজেট এবং সামরিক কমান্ড কাঠামোর মধ্যে নিয়ে যেতে হবে।

    এ ক্ষেত্রে নেতৃত্বের জন্য শুধু আফ্রিকান ইউনিয়নের দিকে তাকিয়ে থাকা বাস্তবসম্মত নয়। বরং সামুদ্রিক সক্ষমতা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছাসম্পন্ন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রকে সামনে আসতে হবে। দক্ষিণ আফ্রিকা, নাইজেরিয়া, মিসর, মরক্কো, কেনিয়া, অ্যাঙ্গোলা ও সেনেগালের মতো দেশগুলো আঞ্চলিক অর্থনৈতিক জোট এবং বিশেষায়িত কাঠামোর মাধ্যমে এই উদ্যোগে নেতৃত্ব দিতে পারে।

    এর একটি আফ্রিকান নজিরও রয়েছে। গিনি উপসাগরের দেশগুলো ইয়াউন্ডে আর্কিটেকচার গড়ে তুলেছিল। এর মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদান ও সমন্বয়ের কাঠামো তৈরি হয় এবং ওই অঞ্চলে জলদস্যুতা কমাতে তা ভূমিকা রাখে। এই মডেলকে পশ্চিম ভারত মহাসাগর এবং মোজাম্বিক চ্যানেলেও সম্প্রসারণ করা যেতে পারে।

    বাস্তব নীতির ক্ষেত্রে অন্তত ছয়টি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।

    প্রথমত, ইতিমধ্যে গৃহীত সামুদ্রিক চুক্তি ও কৌশলগুলো অনুমোদন করে বাস্তবে কার্যকর করতে হবে।

    দ্বিতীয়ত, একটি অভিন্ন সামুদ্রিক নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। স্যাটেলাইট ও রাডার থেকে পাওয়া তথ্য একীভূত করা, সমন্বিত কোস্টগার্ড ব্যবস্থা, যৌথ টহল এবং এক দেশের নিরাপত্তা বাহিনীকে অন্য দেশের জাহাজে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার মতো ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

    তৃতীয়ত, অর্থায়নের স্থায়ী সমাধান করতে হবে। আফ্রিকান উন্নয়ন ব্যাংকসহ নিজস্ব সম্পদের ভিত্তিতে একটি আফ্রিকান সামুদ্রিক নিরাপত্তা তহবিল গঠন করা যেতে পারে। এর মাধ্যমে বিদেশি দাতাদের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে।

    চতুর্থত, সামুদ্রিক উদ্যোগকে আফ্রিকান কন্টিনেন্টাল ফ্রি ট্রেড এরিয়ার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। বন্দর ও সমুদ্রপথকে মহাদেশীয় অর্থনৈতিক একীভূতকরণের মূল অবকাঠামো হিসেবে দেখতে হবে।

    পঞ্চমত, জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে। আফ্রিকাকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করে আবার পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির দুর্বলতা থেকে বের হতে হবে। নিজেদের পরিশোধনাগার ও কৌশলগত জ্বালানি মজুত বাড়াতে হবে, যাতে কোনো আন্তর্জাতিক চোকপয়েন্টে সংকট তৈরি হলে পুরো মহাদেশ বিপদে না পড়ে।

    ষষ্ঠত, সমুদ্রকে ঘিরে মানবসম্পদ ও শিল্প সক্ষমতা তৈরি করতে হবে। সামুদ্রিক একাডেমি, হাইড্রোগ্রাফি, জাহাজ মেরামত ও নির্মাণ, নিজস্ব পতাকায় জাহাজ পরিচালনা এবং আফ্রিকান সামুদ্রিক বীমাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। বর্তমানে যে বিপুল অর্থ ও মূল্য আফ্রিকার বাইরে চলে যায়, তার একটি বড় অংশ মহাদেশের ভেতরে ধরে রাখতে হবে।

    শেষ পর্যন্ত ভূরাজনৈতিক সচেতনতা কোনো ঘোষণাপত্রে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। এটি বাস্তব হয়ে ওঠে তখনই, যখন তার পেছনে অর্থায়ন করা প্রতিষ্ঠান, বাস্তবায়িত বাজেট এবং কার্যকর কমান্ড কাঠামো থাকে।

    হরমুজ-পরবর্তী যুগ: আফ্রিকার সুযোগ

    হরমুজ-পরবর্তী যুগ আফ্রিকার জন্য কেবল একটি নতুন সংকট নয়; এটি হয়তো মহাদেশটির সামনে আসা সবচেয়ে বড় সুযোগগুলোর একটি।

    নতুন বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে আফ্রিকার জায়গা থাকবে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর আসলে ইতিমধ্যেই নির্ধারিত। ভূগোল ও সম্পদের কারণেই আফ্রিকা বিশ্বব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

    প্রকৃত প্রশ্ন হলো, আফ্রিকা কি সেই অবস্থানকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করার মতো কৌশলগত সক্ষমতা ও রাজনৈতিক দূরদর্শিতা অর্জন করতে পারবে?

    অর্থাৎ আফ্রিকা কি অন্যদের তৈরি ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে কেবল একটি সম্পদভাণ্ডার ও বাণিজ্যপথ হয়ে থাকবে, নাকি নিজের শক্তি, সম্পদ ও ভৌগোলিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে ইতিহাসের বস্তু নয়, ইতিহাসের নির্মাতা হয়ে উঠবে-সিদ্ধান্তটা এখন আফ্রিকার নিজের।

    আল জাজিরা থেকে এআই অনূদিত

    React:

    Leave a Comment

    Your email address will not be published.

    Theme by Jhinai Technologies