সাপ্তাহিক জনজীবন
শিক্ষাজীবন শেষ করে হাতে সনদ নেওয়ার পর একজন তরুণের স্বপ্ন থাকে নিজের যোগ্যতায় একটি সম্মানজনক চাকরি পাওয়া। পরিবারের প্রত্যাশা পূরণ করা, নিজের পায়ে দাঁড়ানো এবং জীবনের পরবর্তী অধ্যায় শুরু করার প্রস্তুতি নেন তিনি। কিন্তু বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে অনেকের সেই স্বপ্ন দীর্ঘ অপেক্ষায় আটকে যায়। একের পর এক চাকরির বিজ্ঞপ্তি দেখা, অনলাইনে আবেদন করা, পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া, সাক্ষাৎকারে অংশ নেওয়া, তারপর ফলাফলের অপেক্ষা। কখনো প্রত্যাখ্যান, কখনো অভিজ্ঞতার অভাব, কখনো আবার কাঙ্ক্ষিত বেতন না পাওয়ার হতাশা। এভাবেই শিক্ষাজীবন শেষ হওয়ার পরও বহু তরুণের জীবনে শুরু হয় অনিশ্চয়তার নতুন অধ্যায়।
বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ বিস্তৃত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়ে বের হচ্ছেন। কিন্তু শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জন করলেই যে কর্মসংস্থান নিশ্চিত হবে, বাস্তবতা তা বলছে না। একদিকে চাকরিপ্রার্থীর সংখ্যা বাড়ছে, অন্যদিকে যোগ্যতা অনুযায়ী মানসম্মত কর্মসংস্থানের সুযোগ সবার জন্য সমানভাবে তৈরি হচ্ছে না।
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এবং বিশ্বব্যাংকের বিভিন্ন বিশ্লেষণে বাংলাদেশের শ্রমবাজারে দক্ষতার অসংগতি, প্রশিক্ষণের সীমাবদ্ধতা ও শিক্ষার সঙ্গে কর্মক্ষেত্রের চাহিদার ব্যবধানের বিষয়টি উঠে এসেছে। আইএলওর বাংলাদেশবিষয়ক দক্ষতা উন্নয়ন মূল্যায়নেও শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে প্রশিক্ষণব্যবস্থার সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার সনদ আছে, কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা কোথায়?
একজন তরুণ বছরের পর বছর পড়াশোনা করে যখন চাকরির বাজারে প্রবেশ করেন, তখন তাঁর প্রথম প্রত্যাশা থাকে অর্জিত শিক্ষার উপযুক্ত মূল্যায়ন। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, শিক্ষাগত যোগ্যতা চাকরির প্রাথমিক শর্ত পূরণ করলেও নিয়োগের অন্যান্য শর্ত পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
কোনো পদে স্নাতক ডিগ্রি চাওয়া হচ্ছে, আবার একই সঙ্গে নির্দিষ্ট সফটওয়্যারে দক্ষতা, ইংরেজিতে যোগাযোগের সক্ষমতা, প্রতিবেদন লেখার অভিজ্ঞতা এবং কয়েক বছরের কাজের অভিজ্ঞতাও চাওয়া হচ্ছে। সদ্য স্নাতক হওয়া একজন চাকরিপ্রার্থীর পক্ষে এসব শর্ত একসঙ্গে পূরণ করা সব সময় সম্ভব হয় না।
এখানে একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে আসে। একজন তরুণ যদি চাকরিতে প্রবেশের সুযোগই না পান, তাহলে প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা অর্জন করবেন কীভাবে? অভিজ্ঞতা ছাড়া চাকরি পাওয়া কঠিন, আবার চাকরি ছাড়া অভিজ্ঞতা অর্জনও কঠিন। এই চক্র অনেক নতুন স্নাতকের জন্য কর্মজীবনের শুরুটাকে জটিল করে তোলে।
তবে সব নিয়োগকর্তার চাহিদা অযৌক্তিক নয়। অনেক কাজের জন্য বাস্তব অভিজ্ঞতা, নির্দিষ্ট প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা প্রয়োজন। সমস্যা তৈরি হয় তখন, যখন প্রাথমিক পর্যায়ের পদেও এমন অভিজ্ঞতা চাওয়া হয় যা একজন নতুন প্রার্থীর অর্জনের সুযোগ খুব সীমিত ছিল।
ফলে শিক্ষিত তরুণদের একাংশকে নিজের যোগ্যতার চেয়ে কম বেতনের কাজ গ্রহণ করতে হয়, কেউ অস্থায়ী কাজে যুক্ত হন, আবার কেউ দীর্ঘ সময় বেকার থাকেন। এর প্রভাব শুধু ব্যক্তির আয়ে সীমাবদ্ধ থাকে না, পরিবারের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও সামাজিক সম্পর্কেও চাপ তৈরি করে।
চাকরি খোঁজাই যখন দীর্ঘমেয়াদি সংগ্রাম
চাকরির জন্য প্রস্তুতি নেওয়া অনেক তরুণের কাছে পূর্ণকালীন কাজের মতোই সময়সাপেক্ষ। প্রতিদিন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞপ্তি খোঁজা, জীবনবৃত্তান্ত তৈরি, অনলাইনে আবেদন, লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি এবং সাক্ষাৎকারের জন্য নিজেকে তৈরি করতে হয়।
সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ও নিয়োগের বিভিন্ন ধাপ পার হতে দীর্ঘ সময় লেগে যেতে পারে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের প্রক্রিয়াও প্রতিষ্ঠানভেদে ভিন্ন। কোথাও একাধিক সাক্ষাৎকার, কোথাও ব্যবহারিক পরীক্ষা, আবার কোথাও দীর্ঘ অপেক্ষার পরও প্রার্থীরা ফলাফল জানতে পারেন না।
এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ার একটি অর্থনৈতিক দিকও রয়েছে। চাকরিপ্রার্থীর আবেদন ফি, যাতায়াত, প্রস্তুতির বই, কোচিং কিংবা অনলাইন প্রশিক্ষণে অর্থ ব্যয় হতে পারে। পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য সীমিত হলে এই ব্যয় আরও বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
অনেক তরুণ চাকরির প্রস্তুতির পাশাপাশি টিউশনি, খণ্ডকালীন কাজ কিংবা ছোটখাটো ব্যবসার মাধ্যমে নিজের খরচ চালানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু কাজের সময় ও চাকরির প্রস্তুতির মধ্যে ভারসাম্য রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
দীর্ঘদিন কর্মসংস্থান না পেলে আত্মবিশ্বাস কমে যেতে পারে। বন্ধুবান্ধবের কেউ চাকরি পেলে নিজের অবস্থান নিয়ে হতাশা তৈরি হয়। পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। অথচ বেকার থাকা মানেই যে একজন তরুণ অযোগ্য, বিষয়টি এমন নয়। কর্মসংস্থানের সুযোগ, নিয়োগের ধরন, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং ব্যক্তিগত দক্ষতা সবকিছু মিলেই একজনের চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা নির্ধারণ করে।
দক্ষতার ঘাটতি, নাকি শিক্ষাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা?
শিক্ষিত বেকারত্ব নিয়ে আলোচনায় প্রায়ই বলা হয়, তরুণদের প্রয়োজনীয় দক্ষতার অভাব রয়েছে। এই বক্তব্যের একটি বাস্তব ভিত্তি আছে। অনেক প্রতিষ্ঠানে প্রার্থীর শুধু সনদ নয়, কাজের সমস্যা সমাধান, দলগতভাবে কাজ করা, যোগাযোগ, ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার এবং বাস্তব পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতাও প্রয়োজন।
কিন্তু দক্ষতার ঘাটতির দায় শুধু শিক্ষার্থীর ওপর চাপিয়ে দিলে সমস্যার পূর্ণ চিত্র পাওয়া যায় না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ানো বিষয়বস্তু, ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের সুযোগ, শিক্ষকদের সক্ষমতা এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের মানও গুরুত্বপূর্ণ।
কোনো শিক্ষার্থী যদি দীর্ঘ সময় তাত্ত্বিক শিক্ষা গ্রহণ করেন, কিন্তু বাস্তব কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, সফটওয়্যার কিংবা পেশাগত পরিবেশের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ না পান, তাহলে চাকরিতে প্রবেশের পর তাঁকে নতুন করে শিখতে হয়।
বিশ্বব্যাংকের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা বিষয়ে বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, অনেক প্রশিক্ষণব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের প্রকৃত চাহিদা ও নিয়োগদাতাদের প্রত্যাশার মধ্যে ব্যবধান রয়েছে। আধুনিক কর্মক্ষেত্রে শুধু প্রযুক্তিগত জ্ঞান নয়, চিন্তাশক্তি, ডিজিটাল দক্ষতা ও উদ্যোগ গ্রহণের ক্ষমতাও প্রয়োজন।
তাই শিক্ষার মান উন্নয়নের অর্থ শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল নিশ্চিত করা নয়। শিক্ষার্থীরা বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধান করতে পারছেন কি না, নিজের কাজ ব্যাখ্যা করতে পারছেন কি না এবং নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারছেন কি না, সেটিও বিবেচনায় নিতে হবে।
একই সঙ্গে নিয়োগদাতাদেরও স্পষ্ট করতে হবে, কোন পদের জন্য কোন দক্ষতা অপরিহার্য। অপ্রয়োজনীয় শর্ত বাড়িয়ে দিলে যোগ্য প্রার্থীরাও নিয়োগপ্রক্রিয়া থেকে বাদ পড়তে পারেন।
কারিগরি শিক্ষা কি বিকল্প কর্মসংস্থানের পথ?
বাংলাদেশে কর্মসংস্থানের সংকট মোকাবিলায় কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার সম্ভাবনা গুরুত্বপূর্ণ। সব তরুণকে একই ধরনের একাডেমিক ডিগ্রির পথে পরিচালিত করার পরিবর্তে শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন পেশায় দক্ষ করে তোলার সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন।
বিদ্যুৎ ও ইলেকট্রনিকসের কাজ, শিল্পযন্ত্র রক্ষণাবেক্ষণ, অটোমোবাইল প্রযুক্তি, ওয়েল্ডিং, রেফ্রিজারেশন ও এয়ার কন্ডিশনিং, কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং, ডিজিটাল সেবা, স্বাস্থ্যসেবার সহায়ক পেশা এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তিতে দক্ষ কর্মীর প্রয়োজন হতে পারে। তবে কোন অঞ্চলে কোন পেশার চাহিদা বেশি, তা নির্ধারণের জন্য নিয়মিত শ্রমবাজার বিশ্লেষণ প্রয়োজন।
কারিগরি শিক্ষা মানেই কম মর্যাদার শিক্ষা, এই ধারণা থেকেও বেরিয়ে আসতে হবে। বাস্তব দক্ষতাসম্পন্ন একজন কর্মী শিল্পপ্রতিষ্ঠান, নির্মাণ খাত, সেবা খাত কিংবা নিজস্ব উদ্যোগের মাধ্যমে জীবিকা অর্জন করতে পারেন। অনেক পেশায় অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে আয় ও পেশাগত উন্নতির সুযোগও তৈরি হয়।
তবে শুধু প্রশিক্ষণকেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ালেই সমস্যার সমাধান হবে না। প্রশিক্ষণের মান, আধুনিক যন্ত্রপাতি, দক্ষ প্রশিক্ষক, শিল্পপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষানবিশির সুযোগ এবং প্রশিক্ষণ শেষে চাকরি পাওয়ার বাস্তব সম্ভাবনা নিশ্চিত করতে হবে।
এ ক্ষেত্রে আইএলওর ২০২৬ সালের একটি উদ্যোগ উল্লেখযোগ্য। বাংলাদেশের চট্টগ্রামে ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীদের শিল্পপ্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ আরও কার্যকর করতে একটি পরীক্ষামূলক কর্মসূচিতে ৪৭ জন শিক্ষার্থীকে ছয়টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছিল। কর্মসূচিটিতে বাস্তব কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা, তত্ত্বাবধান এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠাননির্ভর মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এই ধরনের উদ্যোগের শিক্ষা হলো, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও নিয়োগদাতাদের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ তৈরি হলে শিক্ষার্থীরা কর্মজীবনে প্রবেশের আগে প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পান।
নারীদের কর্মসংস্থানে বাড়তি বাধা
শিক্ষিত তরুণীদের কর্মসংস্থানের প্রশ্নটি আরও গভীরভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জনের পরও নিরাপদ কর্মপরিবেশ, যাতায়াত, পরিবারের দায়িত্ব, সামাজিক প্রত্যাশা এবং নিয়োগে বৈষম্যের মতো বিষয় তাঁদের চাকরির সুযোগ সীমিত করতে পারে।
কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণের সময়সূচি, প্রশিক্ষণকেন্দ্রে যাতায়াতের অসুবিধা কিংবা কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার উদ্বেগ নারীদের অংশগ্রহণে বাধা সৃষ্টি করে। আবার নির্দিষ্ট কিছু পেশায় নারীদের উপযুক্ত মনে না করার সামাজিক ধারণাও সুযোগ সীমিত করতে পারে।
ফলে কর্মসংস্থানের নীতি প্রণয়নে নারী-পুরুষের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিরাপদ পরিবেশ, প্রয়োজনীয় সহায়তা এবং দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ বাড়ানো জরুরি। কারিগরি শিক্ষার ক্ষেত্রেও নারীদের অংশগ্রহণ যেন কয়েকটি প্রচলিত পেশার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে।
সমাধান কোথায়?
শিক্ষিত বেকারত্ব কমাতে সরকার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বেসরকারি খাত এবং চাকরিপ্রার্থীদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
প্রথমত, শ্রমবাজারে কোন ধরনের দক্ষতার চাহিদা বাড়ছে, তা নিয়মিত বিশ্লেষণ করে শিক্ষাক্রম ও প্রশিক্ষণ হালনাগাদ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ পর্যায়ে ইন্টার্নশিপ, শিক্ষানবিশি এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক প্রকল্পের সুযোগ বাড়াতে হবে। তৃতীয়ত, চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার শর্ত বাস্তবসম্মত করতে হবে।
পাশাপাশি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য পেশাগত পরামর্শ, জীবনবৃত্তান্ত তৈরি, সাক্ষাৎকারের প্রস্তুতি এবং দক্ষতা যাচাইয়ের সহজলভ্য ব্যবস্থা প্রয়োজন। প্রত্যন্ত অঞ্চলের তরুণদেরও যেন এসব সুযোগ পাওয়া সম্ভব হয়, সে জন্য ডিজিটাল প্রশিক্ষণ ও স্থানীয় কর্মসংস্থানকেন্দ্র কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
নতুন কর্মসংস্থান তৈরির জন্য ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, শিল্পায়ন এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রসারেও গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ সবাইকে শুধু প্রচলিত চাকরির বাজারের দিকে ঠেলে দিলে প্রতিযোগিতা বাড়লেও কর্মসংস্থানের মোট সুযোগ একই হারে বাড়বে না।
এ ছাড়া কর্মসংস্থানসংক্রান্ত তথ্যের স্বচ্ছতা জরুরি। কতজন তরুণ কাজ খুঁজছেন, তাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতা কী, কোন খাতে কত চাকরি তৈরি হচ্ছে এবং কতজন যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ পাচ্ছেন, এসব বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য নীতিনির্ধারণে সহায়তা করতে পারে।
শেষ কথা: ডিগ্রির মূল্য ফিরুক কর্মক্ষেত্রে
শিক্ষিত তরুণেরা একটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। তাঁদের শিক্ষা, সময়, শ্রম ও সৃজনশীলতা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে পারে। কিন্তু দীর্ঘদিন তাঁদের দক্ষতা ও যোগ্যতা কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি না হলে ব্যক্তি ও পরিবার উভয়েই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একই সঙ্গে দেশের উৎপাদনশীলতা ও উন্নয়নের সম্ভাবনাও বাধাগ্রস্ত হয়।
তরুণদের কর্মসংস্থানের সংকটকে শুধু ব্যক্তিগত ব্যর্থতা হিসেবে দেখা উচিত নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে শিক্ষাব্যবস্থার মান, শ্রমবাজারের কাঠামো, বিনিয়োগ, শিল্পায়ন, নিয়োগপ্রক্রিয়া এবং দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ।
একজন তরুণের হাতে ডিগ্রি থাকা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সেই ডিগ্রিকে কাজে লাগানোর উপযুক্ত ক্ষেত্র তৈরি করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষা যদি কর্মজীবনের পথ খুলে না দেয়, তবে শিক্ষাব্যবস্থা ও কর্মসংস্থান নীতির মধ্যে সংযোগ কোথায় দুর্বল, তা খুঁজে বের করতে হবে।
বাংলাদেশের সামনে তরুণ জনগোষ্ঠীকে জনমিতিক সুবিধায় পরিণত করার সুযোগ রয়েছে। সেই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে তরুণদের শুধু চাকরিপ্রার্থী হিসেবে নয়, উৎপাদন, উদ্ভাবন ও উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।




