শীত আসতে শুরু করলে প্রকৃতিতে যেমন পরিবর্তন দেখা দেয়, তেমনি বদলে যায় মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র, শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে শীত অনেক সময় স্বস্তির বদলে দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই শীত পুরোপুরি জেঁকে বসার আগেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।
শীতের প্রস্তুতির প্রথম ধাপ হলো প্রয়োজনীয় গরম কাপড়ের ব্যবস্থা করা। পুরোনো সোয়েটার, জ্যাকেট, চাদর ও কম্বল পরিষ্কার করে ব্যবহার উপযোগী করে রাখা যেতে পারে। লেপ-তোশক রোদে দিয়ে জীবাণু ও স্যাঁতসেঁতে ভাব দূর করার পাশাপাশি ঘরের দরজা-জানালার ফাঁকফোকর বন্ধ করার ব্যবস্থাও নেওয়া প্রয়োজন। এতে ঠান্ডা বাতাসের প্রকোপ থেকে কিছুটা সুরক্ষা পাওয়া যায়।
শীতকালে শিশু ও বয়স্কদের প্রতি বিশেষ যত্ন নিতে হবে। তাদের শরীর গরম রাখার পাশাপাশি পুষ্টিকর খাবার, নিরাপদ পানি ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। ঠান্ডাজনিত অসুস্থতা দেখা দিলে অবহেলা না করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে হবে। এ ছাড়া শীতের সকালে কুয়াশার কারণে সড়কে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। তাই চালক ও পথচারীদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।
তবে ব্যক্তিগত প্রস্তুতির পাশাপাশি সামাজিক দায়িত্বও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। সমাজের অনেক মানুষের শীতবস্ত্র কেনার সামর্থ্য নেই। তাই সামর্থ্যবান ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানগুলোকে এখন থেকেই শীতবস্ত্র সংগ্রহ ও বিতরণের উদ্যোগ নিতে হবে। বিশেষ করে ছিন্নমূল মানুষ, দিনমজুর, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও অসহায় প্রবীণদের কথা বিবেচনায় রাখা জরুরি।
শীত প্রতিবছর আসে, কিন্তু সবার অভিজ্ঞতা এক রকম হয় না। কারও কাছে শীত আনন্দের, কারও কাছে তা বেঁচে থাকার কঠিন লড়াই। তাই আগাম প্রস্তুতি, সচেতনতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে শীতের দুর্ভোগ কমিয়ে আনা সম্ভব। নিজের পরিবারকে সুরক্ষিত রাখার পাশাপাশি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিক প্রস্তুতিও হোক শীতের আগমনের অন্যতম অঙ্গীকার।




